🔖 পদার্থের বিভিন্ন অবস্থা
পদার্থ: যার ভর আছে, আয়তন আছে, স্থান দখল করে এবং বলপ্রয়োগে বাঁধা প্রদান করে, তাদেরকে পদার্থ বলে।
পদার্থ দুই প্রকার:
- মৌলিক পদার্থ (যেমন: হাইড্রোজেন)
- যৌগিক পদার্থ (যেমন: H₂O - পানি)
📌 ১. মৌলিক পদার্থ
যেসব পদার্থকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে বিভক্ত করলে অন্য কোনো পদার্থ পাওয়া যায় না, তাদেরকে মৌলিক পদার্থ বলে।
উদাহরণ: অক্সিজেন, হাইড্রোজেন, লোহা, রুপা ইত্যাদি।
পানির (H₂O) একটি অণুকে ভাঙলে হাইড্রোজেনের দুটি পরমাণু ও অক্সিজেনের একটি পরমাণু পাওয়া যায়, তাই এটি মৌলিক পদার্থ নয়।
এখন পর্যন্ত ১১৮টি মৌল চিহ্নিত হয়েছে, যার মধ্যে ৯৮টি প্রকৃতিতে পাওয়া যায় এবং বাকি ২০টি কৃত্রিম উপায়ে তৈরি করা হয়।
🚀 মৌলিক পদার্থ চার ধরনের:
- ধাতু – তাপ ও বিদ্যুৎ সুপরিবাহী।
- উদাহরণ: কপার, অ্যালুমিনিয়াম, সিলভার, লোহা
- অধাতু – তাপ ও বিদ্যুৎ অপরিবাহী।
- উদাহরণ: ফ্লোরিন, সালফার, অক্সিজেন
- উপধাতু – কখনো ধাতুর মতো, কখনো অধাতুর মতো আচরণ করে।
- উদাহরণ: বোরন, সিলিকন, আর্সেনিক
- নিষ্ক্রিয় মৌল – রাসায়নিক বিক্রিয়ায় নিষ্ক্রিয়। মোট নিষ্ক্রিয় মৌলের সংখ্যা ৭টি।
- উদাহরণ: হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গন, ক্রিপটন, জেনন, রেডন, ওগানেসন
📌 ২. যৌগিক পদার্থ
যে পদার্থকে বিশ্লেষণ করলে দুই বা তার বেশি ভিন্ন ধর্মবিশিষ্ট মৌলিক পদার্থ পাওয়া যায়, তাকে যৌগিক পদার্থ বলে।
- উদাহরণ: H₂O (পানি), NaCl (লবণ)
📌 উদ্বায়ী পদার্থ
যে সকল পদার্থ তাপ দিলে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়, তাদেরকে উদ্বায়ী পদার্থ বলে।
- উদাহরণ: কপূর, ন্যাপথলিন, আইয়োডিন, নিশাদল
📌 গলনাঙ্ক (Melting Point)
কোনো পদার্থকে কঠিন থেকে তরল করতে যে তাপমাত্রার প্রয়োজন, তাকে গলনাঙ্ক বলে।
- উদাহরণ: বরফের গলনাঙ্ক ০° সেলসিয়াস
📌 স্ফুটনাঙ্ক (Boiling Point)
যে তাপমাত্রায় কোনো তরল ফুটতে থাকে, তাকে স্ফুটনাঙ্ক বলে।
- উদাহরণ: পানির স্ফুটনাঙ্ক ১০০° সেলসিয়াস
পদার্থের পরিবর্তন
পদার্থের পরিবর্তন দুই ধরনের:
- ভৌত পরিবর্তন
- রাসায়নিক পরিবর্তন
ভৌত পরিবর্তন
যে পরিবর্তনের ফলে শুধু পদার্থের বাহ্যিক আকার পরিবর্তন হয় কিন্তু কোনো নতুন পদার্থ তৈরি হয় না।
- উদাহরণ:
- পানি → বরফ → বাষ্প
- লোহাকে চুম্বকে পরিণত করা
- চিনিকে পানিতে দ্রবীভূত করা
রাসায়নিক পরিবর্তন
যে পরিবর্তনের ফলে এক বা একাধিক নতুন পদার্থ সৃষ্টি হয়।
- উদাহরণ:
- লোহায় মরিচা পড়া
- হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন মিশে পানি তৈরি হওয়া
- দিয়াশলাই জ্বালানো
সবচেয়ে হালকা মৌল: হাইড্রোজেন (H)
সবচেয়ে ভারী মৌল: ইউরেনিয়াম (U)
সবচেয়ে ভারী মৌলিক গ্যাস: রেডন (Rn)
📌 পদার্থের অবস্থা তিন প্রকার।
- কঠিন (যেমন: বরফ)
- তরল (যেমন: পানি)
- বায়বীয় (যেমন: জলীয় বাষ্প)
এছাড়া পদার্থের আরেকটি বিশেষ অবস্থা হলো প্লাজমা অবস্থা যা পদার্থের চতুর্থ অবস্থা হিসেবে ধরা হয়। উচ্চ তাপমাত্রা ও চাপে গ্যাসীয় পদার্থ আয়নিত অবস্থায় থাকে। একেই পদার্থের প্লাজমা অবস্থা বলে।
উদাহরণ: সূর্যের অভ্যন্তরীণ অবস্থা, বজ্রপাতের বৈদ্যুতিক ঝলক
🚀 কঠিন পদার্থের বৈশিষ্ট্য
- নির্দিষ্ট আকার ও ওজন আছে
- স্থান দখল করে
- তাপ দিলে প্রসারিত হয়
- বল প্রয়োগ করলে বাধা সৃষ্টি করে
🚀 তরল পদার্থের বৈশিষ্ট্য
- নির্দিষ্ট আয়তন আছে, কিন্তু আকার নেই
- যে পাত্রে রাখা হয়, সেটির আকার ধারণ করে
- নিচের দিকে গড়িয়ে পড়ে
🚀 বায়বীয় পদার্থের বৈশিষ্ট্য
- নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন নেই
- স্থান দখল করে
- ঠান্ডা করলে তরলে পরিণত হয়
🚀 ধাতুর বৈশিষ্ট্য
- ধাতু চকচক করে।
- বিদ্যুৎ পরিবহন করে।
- তাপ পরিবহন করে।
- আঘাত করলে ঝনঝন শব্দ করে।
- নমনীয় ও প্রসারণযোগ্য।
- সহজেই তার বা পাত তৈরি করা যায়।
- অধিকাংশ ধাতু কঠিন।
- উচ্চ গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক থাকে।
- অধিকাংশ ধাতু দৃঢ় প্রকৃতির।
- তীক্ষ্ণ আঘাতে ভঙ্গুর হয় না।
- উচ্চ ঘনত্বের কারণে বেশিরভাগ ধাতু ভারী।
🚀 অধাতুর বৈশিষ্ট্য
- অধাতু চকচক করে না।
- বিদ্যুৎ পরিবহন করে না।
- তাপ পরিবহন করে না।
- আঘাত করলে ঝনঝন শব্দ করে না।
- ভঙ্গুর প্রকৃতির, সহজে ভেঙ্গে যায়।
- গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক সাধারণত কম।
- অধিকাংশ অধাতু গ্যাস বা কঠিন, ব্রোমিন তরল।
- ঘনত্ব কম, বেশিরভাগই হালকা।
- নমনীয় বা প্রসারণযোগ্য নয়।
- কিছু অধাতু রাসায়নিকভাবে খুব সক্রিয়।
- সাধারণত চৌম্বকীয় ধর্ম নেই।